এই পাঁচ ক্রিকেটারকে মুক্তি দিয়ে আজও আফসোস করে কেকেআর

২০০৮ সালে শুরু হওয়া আইপিএল বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি লীগগুলির মধ্যে একটি আর লীগে দু’বার শিরোপা জয় লাভ করা কেকেআর অন্যতম শক্তিশালী দল।

গত আইপিএলে ধীরগতিতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে চেন্নাইয়ের মুখোমুখি হয়। তবে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি এমন ৫ জন খেলোয়াড়কে মুক্তি দিয়েছিল,

যারা পরবর্তীকালে জনপ্রিয় ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন। এর জন্য হয়ত শাহরুখের মালিকানা দলটি আজও আফসোস করে। এই প্রতিবেদনে সেই পাঁচ খেলোয়াড়ের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:-

১) ক্রিস গেইল:

২০০৮ থেকে টানা ৩টি মরসুমে কলকাতা নাইট রাইডারর্সের হয়ে ক্রিস গেইল প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে এই দু’কোটি টাকায় কেনা এই খেলোয়াড় তেমনভাবে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি।

এরপর রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলা শুরু করেন এবং এরপর আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। আরসিবির হয়ে ১৭৫ রানের সর্বোচ্চ স্কোর করেন। এরপর তিনি পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলেন। ক্রিস গেইল ১৪২ ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরি সহ ৪৯৬৫ রান করেছেন।

২) সূর্যকুমার যাদব:

ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সূর্যকুমার যাদব ২০১৪ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডারর্সের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা শুরু করেন। মিডল অর্ডারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও কেকেআর ম্যানেজমেন্টে তরফে তাকে কয়েক বছর পর মুক্তি দেয়।

২০১৭ সাল থেকে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলছেন। বর্তমানে তার পারফরম্যান্স দেখে হয়তো কেকেআর আজও আফসোস করে। সূর্যকুমার ১১৫ ম্যাচে প্রায় ২৯ গড় নিয়ে ২৩৪১ রান করেছেন।

৩) সঞ্জু স্যামসন:

হয়তো অনেকেই জানেন না, সঞ্জু স্যামসন ২০১২ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডারর্সের সদস্য ছিলেন। কিন্তু তার দুর্বল পারফরমেন্সের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন।

যাই হোক পরবর্তীকালে ডেয়ারডেভিলসের (দিল্লি ক্যাপিটালস) হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন। বর্তমানে তিনি রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক ও আইপিএলের অন্যতম সেরা বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি পরিচিত। সঞ্জু স্যামসন ১২১ ম্যাচে ৩টি সেঞ্চুরি সহ ৩০৬৮ রান করেছেন।

৪) মোহাম্মদ শামি:

মোহাম্মদ শামি ২০১১ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে প্রথম দুই বছর কেবল মাঠের বাইরে কাটান। ২০১৩ আইপিএলে তিনি ৩টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১টি উইকেট পান এবং দুর্বল পারফরমেন্সের কারণে বাদ পড়েন।

বর্তমানে তিনি জাতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ বোলার। মোহাম্মদ শামি ৭৭ ম্যাচে ৭৯টি উইকেট নিয়েছেন। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩-১৫ উইকেট।

৫) মণীশ পান্ডে:

মণীশ পান্ডে আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান যিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। এরপর তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল অবধি কলকাতার হয়ে খেলেন।

উল্লেখ্য ২০১৪ আইপিএল ফাইনালে তিনি ৯৪ রানের ইনিংস খেলে কেকেআর দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে দলের হয়ে রান করলেও কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি তরফে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মণীশ পান্ডে ১৫৪ ম্যাচে ৩০.৬৯ গড়ে ৩৫৬০ রান করছেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *