ঠান্ডা মাথায় কিভাবে ম্যাচ জিততে হয় ভারতকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে শেখালো আফ্রিকানরা

সিরিজ বাঁচাতে নেমেছিল ভারত। প্রথম ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে ব্যর্থ হওয়া সফরকারীরা গতকাল বোলান্ড পার্কে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ৬ উইকেটে ২৮৭ রান তুলে ভালো চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছিল তারা।

কিন্তু ইয়ানেমান মালান ও কুইন্টন ডি ককের শতরানের উদ্বোধনী জুটি কঠিন পরীক্ষাকে সহজ বানিয়ে দিয়েছে। ১১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিক দল।

ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরু করেছিল ভারত। ঠিক ৫০ বলেই দলের রান ৫০ পেরিয়েছে ভারতের। পাওয়ার প্লেতে এসেছে ৫৭ রান। কিন্তু ভারতের এমন শুরুটা বৃথা গেছে।

পরের ১৬ বলে এসেছে মাত্র ৭ রান। আউট হয়েছেন শিখর ধাওয়ান (২৯) ও বিরাট কোহলি। শুরু থেকেই রান তোলায় পিছিয়ে থাকা লোকেশ রাহুল এরপর আরও গুটিয়ে গেলেন। ঋষভ পন্ত নামলেন চারে।

এই উইকেটরক্ষক যখন নেমেছেন, রাহুলের রান তখন ২৪। ১৩তম ওভারে নেমে ২৪তম ওভারেই রানে রাহুলকে টপকে গেলেন পন্ত। তাব্রেইজ শামসিকে চার বলের মধ্যে ৩ চার মারলেন সে ওভারে। পরের ওভারেই পেয়ে গেলেন অর্ধশতক।

৪৩ বলে পাওয়া সে পঞ্চাশ উদ্‌যাপন করলেন মুখোমুখি হওয়া পরের বলে স্কুপ করে। ওদিকে লোকেশ রাহুল পঞ্চাশ পেয়েছেন অনেক ধীরেসুস্থে। ২৯তম ওভারে ৭১তম বলে যখন পঞ্চাশ হলো এই সিরিজের অধিনায়কের, পন্তের রান ততক্ষণে ৫৭ বলে ৭৪।

ভারত ৩১ ওভার শেষ করেছিল ২ উইকেটে ১৭৯ রানে। ৩২তম ওভারের প্রথম বলে সিসান্দা মাগালাকে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট উপহার দিয়ে ফিরেছেন রাহুল (৫৫)।

ভারত ধাক্কা খেয়েছে পরের ওভারে, যখন ইনিংসের মাঝপথে পন্তের কাছে নাজেহাল হওয়া কেশব মহারাজ প্রতিশোধ নিলেন লং অনে তাঁকে ক্যাচ বানিয়ে। ৭১ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ক্যারিয়ার–সেরা ৮৫ রান করে ফিরেছেন পন্ত।

৪ রানের মধ্যে এই দুই উইকেটের পতন ভারতকে কক্ষচ্যুত করেছে। ২৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর (৪০*) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন (২৫*)।

জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা নেমেছে তেড়েফুঁড়ে। ৮ ওভারের মধ্যে দলকে পঞ্চাশ পার করে দিয়েছেন কুইন্টন ডি কক ও ইয়ানেমান মালান। এর মধ্যে কক একাই নিয়েছেন ৩৯ রান! ৩৬ বলে ৫০ করার পথে ৬ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন ডি কক।

১৬ ওভারের মধ্যে ১০০ পেরিয়েছে স্বাগতিক দল। ডি ককের দাপট তখনো চলছে। ছক্কা মেরে দলকে ১০০ পার করিয়েছেন ডি কক। তাঁর ৬৪ রানের পাশে মালান অপরাজিত ৩৮ রানে। এরপর অবশ্য ডি কক একটু শান্ত হয়েছেন।

আর মাত্র একটি চার মেরেই কক (৭৮) আউট হয়েছেন ২২তম ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ১৩২। ভারতের ম্যাচে ফেরার আশা এরপরও জাগতে দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা।

মালান ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৭৬ বলেই তুলেছেন ৮০ রান। ৬৬ বলে ৫০ পেরোনো মালানকে শতক পেতে দেননি যশপ্রীত বুমরা। ১০৮ বলে ৯১ রান করে ফিরেছেন মালান। ২ রান পরই ফিরেছেন বাভুমাও।

৩৬ বলে ৩৫ রান করা বাভুমা ফিরেছেন যুজবেন্দ্র চাহালকে ক্যাচ দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য তখন ৭৪ রান দরকার। হাতে বল ৮৬টি। এইডান মার্করাম (৩৭*) ও রাসি ফন ডার ডুসেন (৩৭*) বাকি কাজটা সহজেই শেষ করেছেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *