তৃতীয় টেস্টে বিরাটের মাঠে নামা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়

সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে জিতে এই মুহূর্তে ১-০ এগিয়ে রয়েছে ভারত (India)। আর অন্যদিকে ঘরের মাঠে সিরিজ হাতছাড়া করার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রোটিয়ারা।

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রোটিয়াদের দেশে এসেছিলেন বিরাট কোহলিরা। দক্ষিণ আফ্রিকার গড়ে ডিন এলগারর বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ শুরু করেছেন সামি-বুমরারা।

এ বার জো’বার্গে সিরিজ মুঠোয় ভরে নিতে চায় ভারত। টিম ইন্ডিয়ার কাছে পয়া মাঠ জো’বার্গ। ফলে পয়া মাঠেই ইতিহাস তৈরি করতে মরিয়া। গত ২৯ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের সিরিজ জিতে দেশে ফেরাই একমাত্র লক্ষ্য দ্রাবিড়ের দলের।

এখনও পর্যন্ত ওয়ান্ডারার্সে ৫টি টেস্ট খেলেছে দুই দল। যার মধ্যে ২টি ম্যাচে জিতেছে ভারত এবং ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। জো’বার্গে বছরের প্রথম টেস্ট জিতলেই ইতিহাস তৈরি করতে পারবে টিম ইন্ডিয়া।

পিঠের চোটে ওয়ান্ডারার্স টেস্টে খেলতে পারেননি বিরাট কোহলি। কিন্তু কেপ টাউনে তিনি হয়তো জীবনের ৯৯তম টেস্ট খেলতে চলেছেন। এমনটাই ইঙ্গিত ভারতীয় দলের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের।

তিনি জানিয়েছেন, শেষ দু’দিন কোহলি অনেকটাই স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করছেন। নেটে ব্যাটও করেছেন। দলের ফিজিয়ো শেষ সিদ্ধান্ত নিলেও দ্রাবিড় মনে করেন,

১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টেস্টের আগে হাতে চার দিন পাচ্ছে ভারত। তত দিনে অধিনায়ক নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এসে দ্রাবিড় বলেন, ‘‘আমার মনে হয় বিরাট পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। শেষ কয়েক দিন ধরে ট্রেনিং করছে। দৌড়নো শুরু করেছে।

নেটে থ্রো ডাউনের সাহায্যে ব্যাট করেছে শেষ দু’দিন।’’ যোগ করেন, ‘‘কেপ টাউনের আগে আরও দু’টো নেট সেশন পাবে। তা ছাড়া এখনও চার দিন পরে খেলা।

আমি আশা করছি, ও খেলবে। ফিজ়িয়োর সঙ্গে এখনও আলোচনা করিনি। কিন্তু ওর সঙ্গে কথা বলে মনে হল, খুব একটা সমস্যা নেই।’’

সেঞ্চুরিয়নে প্রথম টেস্ট ভারত জেতার পরে অনেকেই মনে করেছিলেন, ওয়ান্ডারার্সেই সিরিজ় জিতে যাবেন কে এল রাহুলরা। কারণ, বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত এই মাঠে টেস্টে ভারতকে হারাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

সেই পরিসংখ্যানে জল ঢেলে দেয় ডিন এলগারের অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস। ভারতীয় দলের হেড কোচের আফসোস, তাঁর দলের কেউ এই রকম ধৈর্যশীল ইনিংস খেলতে পারেননি দ্বিতীয় টেস্টে।

বলছিলেন, ‘‘ব্যাটাররা যদি ক্রিজ়ে থিতু হয়ে যায়, তাকে বড় ইনিংসে পরিণত করতেই হবে। প্রথম টেস্টে রাহুল সেঞ্চুরি করেছিল বলেই প্রথম ইনিংসে এত বড় ব্যবধানে আমরা এগিয়ে যাই।

ম্যাচও জিতি। দ্বিতীয় টেস্টে অনেকেই ক্রিজ়ে থিতু হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বড় ইনিংসে পরিণত করতে ব্যর্থ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যে কোনও ব্যাটার যদি একটা হাফসেঞ্চুরির ইনিংসকে বড় রানে পরিণত করতে পারে,

সেখানেই অতিরিক্ত ৭০-৮০ রান পেয়ে যায় দল। বোলারদের মধ্যেও লড়াই করার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে।’’

দায়িত্বের কথা বলতেই ঋষভ পন্থের প্রসঙ্গ ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঋষভের কি আরও কিছুটা সতর্ক হওয়া উচিত? দ্রাবিড়ের জবাব,

‘‘ঋষভ বরাবরই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটার। ওকে কখনওই বলব না, স্বাভাবিক ক্রিকেট থেকে বেরিয়ে অন্য কিছু করুক। ওর এটাই রান করার ভঙ্গি।’’ যোগ করেন, ‘‘তবে শট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সচেতন হতে হবেই।

কোন সময় কোন শট খেলা উচিত, সেটা বুঝতে হবে। ছোট কয়েকটি ভুল শুধরে নিতে পারলে আবারও আগের মতো রান আসবে ওর ব্যাটে।’’

হনুমা বিহারীর ব্যাটিংয়েও খুশি দ্রাবিড়। কিন্তু মহম্মদ সিরাজ আদৌ পরের টেস্টে ফিট হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন হেড কোচ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *