দলীয় অভিজ্ঞতাকেই টেক্কা দিয়ে যাবে কোহলিরাঃহাসিম আমলা

ডলফিনসের অধিনায়ক থাকাকালে হাশিম আমলা ২০০৪-০৫ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম আটটি ইনিংসের চারটিতেই সেঞ্চুরি করেছিলেন।তার এ সাফল্য ঘরোয়া পর্যায় থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের ভারত সফরে যেতে সহায়তা করে।

সেঞ্চুরিয়নে প্রথম টেস্টে হার ১১৩ রানে। সোমবার থেকে জোহানেসবার্গে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কে কোনও আশার কথা শোনাতে পারলেন না হাশিম আমলা।

প্রাক্তন ওপেনার জানিয়ে দিলেন, দলীয় অভিজ্ঞতায় বিরাট কোহলির ভারতীয় দল অনেক এগিয়ে রয়েছে তাঁর দেশের চেয়ে। সেটাই চলতি টেস্ট সিরিজ়ে ভারতকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমলা বলেছেন, “সেঞ্চুরিয়নের ফল দেখে অবার হইনি। ওটাই প্রত্যাশিত ফল ছিল। গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে শক্তিশালী দল হিসেবে ভারত নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে।

দলীয় অভিজ্ঞতায় ওরা অনেক এগিয়ে, আর সেটাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে বোর্ডে যখন বড় রান থাকে, তখন এই দলীয় অভিজ্ঞতাই বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে।”

এই দক্ষিণ আফ্রিকা দলে কুইন্টন ডি’কক, কাগিসা রাবাডা, লুনগি এনগিডি ছাড়া আর কোনও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই। তার মধ্যে প্রথম টেস্টে রাবাডা এবং এনগিডি বল হাতে খানিকটা লড়াই করেছিলেন, কিন্তু তা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ভারতীয় দলকে কোনও সময়েই অস্বস্তিতে ফেলতে পারেনি।

আমলা জানিয়েছেন, প্রথম ইনিংসে ভারতের বড় স্কোরই ম্যাচে পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি বলেছেন, “সেঞ্চুরিয়ন এমন এক মাঠ, যেখানে সময় বাড়ার সঙ্গে ব্যাটিং করা হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য।

সেখানে ভারত টসে জিতে যখন শুরুতেই ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিল এবং তিনশোর উপরে রান করে ফেলল, তখনই ম্যাচটা বেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার হাত থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা পাল্টা রান তুলতেই পারেনি।” যোগ করেছেন, “প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানে পিছিয়ে পড়েই বড় ধাক্কা খেয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটাই শেষ পর্যন্ত বড় ফারাক তৈরি করে দিয়েছে।”

আমলা প্রশংসা করেছেন ভারতীয় ব্যাটারদের ভূমিকায়। তিনি বলেছেন, “প্রথম দিনের উইকেট ছিল ব্যাটিংয়ের পক্ষে উপযুক্ত। অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে ভারতীয় ব্যাটারদের। ওরা অনেক পরিকল্পিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রিকেট খেলেছে।” যোগ করেছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনও দল এলে ব্যাটারদের প্রথম পরামর্শ দেওয়া হয়, কী ভাবে ছাড়তে হবে অফস্টাম্পের বাইরের বল।

প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা সেই কাজটা তেমন ভাল না করতে পারলেও দ্বিতীয় দিনে ওরা পাল্টা জবাব দিয়ে ৩২৭ রানের মধ্যে ভারতকে থামিয়ে দেয়। না হলে আমি মনে করি, কমপক্ষে ৪০০ রানও করতে পারত ভারতীয় দল।” যদিও রাবাডা, এনগিডির লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি।

বলেছেন, “রাবাডা, এনগিডি, নবাগত জানসেন দারুণ বোলিং করে ভারতীয় দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে।” তবে আমলা মনে করেন, একটু সতর্ক হয়ে খেলতে পারলে চলতি সিরিজ়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *