নিজ হাতে এই তিন জন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ধবংস করেছে মহেন্দ্র সিং ধোনি

ধোনি ১৮ বছর বয়সে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বিহার ক্রিকেট দলের পক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে নিজেকে অভিষিক্ত করেন। অভিষেক ম্যাচে আসাম ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৬৮ রান করেন। ঐ মৌসুমে তিনি ৫ খেলায় ২৮৩ রান সংগ্রহ করেন। বেঙ্গল ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ২০০০-০১ মৌসুমে ১ম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনি তার শক্তিশালী ব্যাটিং এবং অধিনায়কত্বের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। ধোনি তার শান্ত মনোভাব এবং বুদ্ধিমত্তার কারণে টিম ইন্ডিয়াকে অনেক হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতিয়েছতিনি উইকেটরক্ষকের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন এবং তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ফিনিশার হিসাবে পরিচিত।

কিন্তু ধোনি যতদিন ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, অন্য কোনও উইকেটরক্ষকের পক্ষে টিম ইন্ডিয়াতে জায়গা করা খুব কঠিন ছিল।আজ আমরা এমন উইকেটরক্ষকদের কথা বলব, যারা ধোনির কারণে দলে জায়গা করে নিতে পারেননি এবং ২ জন বাধ্য হয়ে অবসর নিয়েছেন।

পার্থিব প্যাটেলের টেস্ট অভিষেক হয় ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। পার্থিব প্যাটেল ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেক হওয়া সর্বকনিষ্ঠ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের খেতাব অর্জন করেছিলেন।পার্থিব, মহেন্দ্র সিং ধোনির আগে দলে এসেছিলেন, কিন্তু খারাপ ফর্মের কারণে তিনি কখনও দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেননি।

পার্থিব প্যাটেল ভারতের হয়ে ২৫টি টেস্ট এবং ৩৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে পার্থিবের নামে রয়েছে ৯৩৪ রান, ওয়ানডেতে ৭৩৬ রান। দুটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও অংশ নিয়েছিলেন পার্থিব।টেস্টে, তিনি ৬২টি ক্যাচ নিয়েছেন এবং ১০টি স্টাম্পও করেছেন।

পার্থিব আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সহ বেশ কয়েকটি দলের হয়ে খেলেছেন।প্যাটেল ২০২০ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

অবসরের পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন তিনি।আপনি কি কখনও ভাবতে পারেন যে ,রঞ্জি ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি রেকর্ডের অধিকারী উইকেটরক্ষককেও টিম ইন্ডিয়ার বাইরে বসে থাকতে হতে পারে। নমন ওঝাকে বরাবরই নির্বাচকরা উপেক্ষা করতেন।এই খেলোয়াড়ের চেয়ে ধোনিকে বরাবরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।

২০১০ সালে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় নমন ওঝার। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি তার শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছিলেন।নমন ওঝা টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ১টি টেস্ট, ১টি ওডিআই এবং ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।

ওঝা রঞ্জি ট্রফিতে উইকেটরক্ষক হিসেবে ৩৫১ উইকেট শিকারের রেকর্ড করেছেন। ওঝা বহু বছর ভারতীয় দলের বাইরে থাকার কারণে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।দীনেশ কার্তিককে নির্বাচকরা ততটা সুযোগ দেযননি, যতটা তার ক্যারিয়ারের শুরুতে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেওয়া হয়েছিল ।

কার্তিক সবসময় ধোনির নামের পিছনে হারিয়ে যেতেন।ধোনির খেলার কাছে এই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বরাবরই উপেক্ষিত ছিল। ধোনির কারণেই কার্তিক কখনই টিম ইন্ডিয়াতে তার স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে পারেনি।

২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে টেস্ট অভিষেক হয় কার্তিক।তিনি ভারতের হয়ে ২৬টি টেস্ট, ৯৪4টি ওয়ানডে এবং ৩২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই টিম ইন্ডিয়ার বাইরে রয়েছেন কার্তিক। তার বদলে নেওয়া হয়েছে তরুণ উইকেটরক্ষক তথা ব্যাটসম্যান ঋষভ পন্তকে। তবে কার্তিক এখনও অবসরের ঘোষণা দেননি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *