বোর্ডের ফেয়ারওয়েল ম্যাচের প্রস্তাব না মেনে পাল্টা জবাব কোহলির

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে আলোরন সৃষ্টিকারি ব্যাটিংদের খুজতে গেলে বিরাট কোহলি নাম তালিকায় উঠবেই এটা সবারি জানা। তার ব্যাটিং পার্ফোমেন্সি বলে দেয় সে কতটা ভয়ানোক ব্যাটিং।

কথায় আছে যে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি শেষটা ভালো হলো না অবশ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কেপটাউনে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়তে না পড়ার জন্য অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি।

ক্রিকেট মহল মনে করছে যে বিরাট কোহলি যদি মনে করতেন তাহলে তার শেষটা অবশ্যই ভালো করতে পারতেন। 100 টেস্ট ম্যাচ খেলে বিদায় জানাতে পারতেন অধিনায়কত্ব কে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে এমনটা জানা গিয়েছে যে তিনি চাননি যে তার এই রকম জাঁকজমকভাবে অধিনায়কত্বের সমাপ্তি হোক।

টানা সাত বছর ধরে তিনি ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। তারি আমলে ভারত বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়লাভ করেছে এবং টেস্ট দল হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে।

তবে কোহেলি যখন বোর্ডকে জানিয়েছিল যে তিনি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তখন বোর্ড তাকে একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলার অনুরোধ করেছিল, বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে। নিজেদের দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে কোহেলির অধিনায়ক হিসেবে 100 তম টেস্ট ম্যাচ হতো সেটা যেটা বোর্ড তাকে অনুরোধ করেছিল ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলতে।

একটি রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে বোর্ড তাকে অনুরোধ করেছিল শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালোরের টেস্টে ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলার জন্য। কোহেলি জানিয়েছে যে, ‘একটা টেস্ট কোনও পার্থক্য তৈরি করবে না। আমি সেরকম নই।’

তার এই সাত বছর ধরে অধিনায়কত্ব করার জন্য তাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সবাই তার অধিনায়কত্বের ক্যারিয়ার কে প্রশংসা করেছে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট থেকে বোর্ড সচিব সবাই তার প্রশংসা করেছে। তার নেতৃত্বে ভারত 40 টি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে। ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে জয়ের রেকর্ড তার সর্বোচ্চ।

তার নেতৃত্বে ভারত কখনো নিজেদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হেরে যায়নি। প্রথম এশীয় দল হিসেবে তাঁর নেতৃত্বেই অজিদের মাটিতে ভারতে টেস্ট সিরিজ জয়লাভ করেছিল। একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি 5 হাজারের রানের ঊর্ধ্বে রান করেছেন। ব্যাটিং গড় 52 এর বেশি যা এক কথায় বলা যায় ভালো পারফরম্যান্স।

বোর্ড প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলী জানিয়েছে যে,‘আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, বিরাট ভারতীয় ক্রিকেট দলকে অনেক দিয়েছে। ওর নেতৃত্বে, ভারতীয় ক্রিকেট দল অনেক সাফল্য পেয়েছে। ওর সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ও BCCI তা শ্রদ্ধা করে।’

অধিনায়ক হিসেবে প্রেসার থাকায় তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে নিজের থেকে অধিনায়কত্ব ছেড়ে ছিলেন। তারপর বিসিসিআই তাকে ওডিআই থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছে এখন মুম্বাইয়ের ছেলেটা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্টে ব্যর্থতার ফলে অধিনায়কত্ব পদ থেকে নিজের ইচ্ছায় সরে দাঁড়ালেন বিরাট কোহলি। অধিনায়ক হিসেবে সরে দাঁড়ানোর আগে তিনি প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সাথে অনেক আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন। কোহেলির বদলে লাল বলের ক্রিকেটে কে ভারতকে এবার নেতৃত্ব দেবে তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *