হরমনপ্রীতের অপরাজিত ১৪৩ রান, ২৩ বছর পর ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতে নজির গড়ল ভারত

এই নিয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে দ্বিতীয় বার ওডিআই সিরিজ জিতে নজির গড়ল হরমনরা। ১৯৯৯ সালের আগে বা পরে আর কখনও ভারত ওডিআই সিরিজ জেতেনি।

ফের ২০২২ সালে এসে ওডিআই সিরিজে জয় পেল ভারত। ১৯৯৯ সালে মিতালি রাজের প্রথম সিরিজে ইংল্যান্ডে গিয়ে জিতেছিল ভারত। আবার ফের ঝুলন গোস্বামীর অবসর সিরিজে জিতল ভারত।

অধিনায়ক হরমনপ্রীত কাউর (অপরাজিত ১৪৩) এবং ফাস্ট বোলার রেনুকা সিং ঠাকুরের (৪ উইকেট) বিধ্বংলী পারফরম্যান্সের হাত ধরে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল বুধবার সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে খেলা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৮৮ রানে পরাজিত করে।

ভারতও প্রথম ওডিআই-ও সাত উইকেটে জিতেছিল এবং দ্বিতীয় ওডিআই জিতে ২৩ বছর পর ইংল্যান্ডে গিয়ে ব্রিটিশদের দুরমুশ করে ওডিআই সিরিজ পকেটে পুড়ে ফেলল।

এই নিয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে দ্বিতীয় বার ওডিআই সিরিজ জিতে নজির গড়ল হরমনরা। ১৯৯৯ সালের আগে বা পরে আর কখনও ভারত ওডিআই সিরিজ জেতেনি। ফের ২০২২ সালে এসে ওডিআই সিরিজে জয় পেল ভারত।

১৯৯৯ সালে মিতালি রাজের প্রথম সিরিজে ইংল্যান্ডে গিয়ে জিতেছিল ভারত। আবার ফের ঝুলন গোস্বামীর অবসর সিরিজে জিতল ভারত। মাঝে ২৩ বছরের ব্যবধান।

বুধবার এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ভারতের পাঁচ উইকেটে ৩৩৩ রানের জবাবে আয়োজকদের ইনিংস শেষ হল ২৪৫ রানে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরুটা করেছিলেন হরমনপ্রীত। সমাপ্তি টানলেন রেনুকা সিং। ১১১ বলে ১৪৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন হরমন। ইংল্যান্ডের কোনও বোলারকেই রেয়াত করলেন না ভারতীয় দলের অধিনায়ক। মারলেন ১৮টি চার এবং চারটি ছয়। শেষ ১১ বলে করলেন ৪৩ রান। তাঁর ব্যাটিং তাণ্ডবে শেষ চার ওভারে ভারতীয় দল তুলল ৭১ রান

রান পেলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানাও। ওপেন করতে নেমে স্মৃতি করলেন ৫১ বলে ৪০ রান। তাঁর ইনিংসে রয়েছে চারটি চার এবং একটি ছয়। বুধবারের দিন-রাতের ম্যাচে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী অবশ্য হার্লিন দেওল। অলরাউন্ডার হার্লিন পাঁচটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে করলেন ৭২ বলে ৫৮ রান।

শেষ দিকে হরমনকে সঙ্গত করেন দীপ্তি শর্মা। তাঁর ন’বলে ১৫ রানের ইনিংসে রয়েছে ২টি চার। হরমনের সঙ্গে তাঁর জুটিতে ৫০ রান উঠল ওভার প্রতি ১৭.৭৫ রানের গড়ে। যা মহিলাদের এক দিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ।

ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের বোলাররা ছাতু হয়ে গেল। আয়োজকদের সফলতম বোলার চার্লি ডিন ৩৯ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয় সফলতম সোফি একলেস্টোন ৬৪ রানে এক উইকেট নিয়েছেন।

বুধবার এক দিনের ম্যাচে অভিষেক হওয়া জোরে বোলার লরেন বেল ৭৯ রান দিয়ে এক উইকেট নেন। যা কোনও অভিষেককারী বোলারের দেওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান।

জবাবে শুরুটাই ভালো করতে পারেনি ইংল্যান্ড। মিডল অর্ডার ব্যাটাররা পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে দিতে ব্যর্থ হয় তাঁরা। ওপেনার ট্যামি বিউমন্ট (৬) এবং এমা ল্যাম্ব (১৫) দ্রুত সাজঘরে ফিরলে তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ সোফিয়া ডাঙ্কলেও (১)। ৪৭ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ড ইনিংসের হাল ধরেন অ্যালিস ক্যাপসি এবং ড্যানি ওয়াট।

ক্যাপসি ৩৬ বলে ৩৯ করেন ৬টি চারের সাহায্যে। আর ড্যানি করেন ৫৮ বলে ৬৫ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টি চার। পাঁচ নম্বরে নেমে অধিনায়ক জোন্স করেন ৫১ বলে ৩৯ রান। তিনটি চার এবং একটি ছয় মারেন তিনি।

তার পর ইংল্যান্ডের কোনও ব্যাটারই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মহিলা দলের ইনিংস শেষ হল ৪৪.২ ওভারে ২৪৫ রানে। যদিও দশম উইকেটে চার্লি ডিন (৩৭) এবং লরেন বেল (অপরাজিত ১১) ৩৪ রান যোগ করেন।

রেনুকা সিং-এর ৪ উইকেট ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। দয়ালন হেমলতা আবার ২.২ ওভারে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। নিঃসন্দেহে তিনি নজর কাড়েন। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন শেফালি বর্মা এবং দীপ্তি শর্মা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.