১৮ বলে ১০ রান, নিশ্চিত জয়ের ম্যাচ হেরে হোয়াইট ওয়াশের স্বাদ পেলো ভারত

বিরাট কোহলি ফিরতেই ম্যাচের ফলাফল যেন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ভারতের হার তখন ছিল শুধুই যেন সময়ের ব্যাপার। মানরক্ষার লড়াইয়েও পারল না টিম ইন্ডিয়া। আবারও ব্যর্থ ভারতের সেই মিডল অর্ডারই। ২৮৮ রানেও তাড়া করে তুলতে পারলেন না লোকেশ রাহুলরা।

তবে একটা অসাধারণ লড়াই করে সকলের মন জিতে নিলেন দীপক চাহার। যেটা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের করার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন দীপক চাহার। ৩৪ বলে ৫৪ রানের চাহারের ঝোরো ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হারল ভারত। সেইসঙ্গে একদিনের সিরিজে ৩-০-এ হারল রাহুল দ্রাবিড়ের ভারতীয় দল।

টেস্টের পর একদিনের সিরিজ ছিল ভারতের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ। কিন্তু সেই আশা পার্লেই দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ হারের পরই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কেপটাউনে ভারতের সামনে ছিল হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য। সেই লড়াইয়েও প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে জিততে পারল না ভারতীয় দল। বরং তাসের ঘরের মতো আবারও ভেঙে পড়ল ভারতের মিডল অর্ডার। তাতে সকলে যেমন হতবাক, তেমনই ক্ষুব্ধও। সোশ্যাল সাইট জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর সমালোচনাও।

টস জিতে এদিন প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। শেষ ম্যাচে দলে চারটে পরিবর্তনও এনেছিলেন তিনি। মিডল অর্ডারে শক্তি বাড়ানোর জন্য যেমন এসেছিলেন সূর্যকুমার যাদব। তেমনই বোলিংয়ে আনা হয়েছিল দীপক চাহার, জয়ন্ত যাদব এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাদের। কিন্তু তাতে ভারতের ভাগ্য বদলালো না। চার বছর আগে যে দেশে একদিনের সিরিজ জিতেছিল ভারত, সেখানেই দেখতে হল লজ্জার হার।

বোলিংয়ে শুরুটা যদিও এদিন খুব একটা খারাপ করেনি ভারত। ৭০ রানের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার তিন তারকাকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। লোকেশ রাহুলের দুর্দান্ত রান আউট এবং চাহারের বলে বাভুমা এবং মালান সাজঘরে ফিরে যান। ৭০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে বেশ চাপেও পড়ে গিয়েছিল প্রোটিয়া বাহিনী। কিন্তু সেখান থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরায় কুইন্টন ডিককের সেঞ্চুরি। তাঁর ১২৪ রানে ভর করেই ফের লড়াইয়ে ফেরে প্রোটিয়ারা।

যদিও তিনি ফেরার পরও ভারতীয় বোলারদের কাছে সুযোগ ছিল। সেটা রাজেও লাগিয়েছিলেন তারা। একসময় যে স্কোর মনে হচ্ছিল ৩০০ রানের গন্ডী টপকে যাবে, সেটাই শেষপর্যন্ত ২৮৭-তে থামে। কেপটাউনে এই রান তাড়া করে জেতাই যায়। গতম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাও এই রান তাড়া করেই জিতেছিল।

কিন্তু এদিনও ব্যাট হাতে শুরুতেই ব্যর্থ লোকেশ রাহুল। ফিরে যান ৯ রানে। এরপর থেকেই শিখর ধওয়ান ও বিরাট কোহলি ম্যাচের হাল ধরেন। প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও ফের ধওয়ান ও কোহলির পার্টনারশিপটা ভরসা যোগাতে শুরু করেছিল।

কিন্তু ৬১ রানেই থেমে যান ধওয়ান। কোহলি ক্রিজে থাকলেও, তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি ঋষভ পন্থ। তাড়াহুড়ো করে ০ রানে ফেরেন তিনি। বিরাট তখনও ভরসা যোগালেও, ৬৫ রানে তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরতেই, ভারতের কার্যত সমস্ত আশা শেষ।

সূর্যকুমার এবং শ্রেয়স আইয়ার একটা পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করলেও, বেশীক্ষণ তা ধরে রাখতে পারেননি। সেই মিডল ওভারে পার্টনারশিপ করতে না পারার সমস্যাটা রয়েই গিয়েছে এদিনও। সূর্য করেন ৩৯ এবং শ্রেয়স ফেরেন ২৬ রানে। তবে সেখান থেকেই লড়াইটা শুরু দীপক চাহারের।

প্রোটিয়া বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুরন্ত শট। চার, ছক্কা হাকিয়ে ম্যাচটা প্রায় বের করেই এনেছিলেন। ৫টা চার, দুটো ছয় মেরে ম্যাচটা প্রায় বের করে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি ফিরতেই সব আশা শেষ হয়ে যায় ভারতের। বছরের শুরুতেই হোয়াইট ওয়াশ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে টিম ইন্ডিয়াকে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *